রাখী দে’র গুচ্ছ কবিতা : পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

রাখী দে’র গুচ্ছ কবিতা : পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

১.প্রতিক্রিয়াহীন কথাগুলিকেসাজিয়ে রাখি পার্শ্বরেখা বরাবর,ঘোলা জল এসে ঝাপটা দেয়,দুলকি চালে পাশ কাটিয়ে যাই,জন্ম শেষে না-নেভা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। ২.বুকে খই উথলে উঠলেআঁচটুকু কমিয়ে দিই,ফেনার শরীর ঘেঁটে জড়ো করিপাখিটি নীরব জলে সাঁতার কাটে! ৩.ক্ষতটি জেগে আছে,পাড়ময় ফুটে আছে সন্ধির ফুল,একেকটি ফুল তুলে নৈবেদ্য সাজাইচিকণ রোমের মুখ তুলে ধরি,তুমি কথা বলে ওঠো। ৪.যেদিকে বিকেল হাঁটে,সেদিকে পড়ে আছে…

সোনালী ঘোষের গুচ্ছ কবিতা : এসো চরণ ধুয়ে দিই

সোনালী ঘোষের গুচ্ছ কবিতা : এসো চরণ ধুয়ে দিই

এসো চরণ ধুয়ে দিই ১.অনিবার্য। আড়মোড় ভাঙছে প্রিয় শব্দগুচ্ছ… এখন উত্তরায়ণ। হরিতকীর বন থেকে উঠে আসা হাওয়া ফুঁ দিয়ে নিভিয়েছে বোধ। উপচে পড়া ঘুম খুঁটে খাচ্ছে চোখহীন একটি ঝুঁটিওয়ালা মোরগ… দ্বিতীয়বার তথাগত, জ‍্যোৎস্নার প্রপাতের কাছে নিয়ে চলো। যেখানের দুরন্ত স্রোতে পাঠ করেছি বহু অধীত বিদ‍্যা আর তোমার পায়ের কাছে ফোটা সেই সেই পদ্মখানির আকর্ণ হাসি……

মধু রাঘবেন্দ্র-র পাঁচটি কবিতা – অনুবাদ : শুক্লা সিংহ
|

মধু রাঘবেন্দ্র-র পাঁচটি কবিতা – অনুবাদ : শুক্লা সিংহ

মূল ইংরেজি থেকে অনূদিত [মধু রাঘবেন্দ্র কবি, সমাজকর্মী, আর্ট ইভেন্ট কিউরেটর এবং ভারতবর্ষে কাব্য-চর্চার অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ ‘Poetry Couture’-র প্রতিষ্ঠাতা। তিনি তাঁর কাব্য আন্দোলনের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব সহ ভারতের অন্যান্য শহরে কবিতা-পাঠের মুক্তমঞ্চ তৈরি করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘Make Me Some Love to Eat’ পাঠক মহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘Stick No Bills’ মুম্বই সাহিত্য…

সিন্টু প্রধানের পাঁচটি কবিতা

সিন্টু প্রধানের পাঁচটি কবিতা

পোশাক তোমার চাদরটার সাথে আজ দেখা হয়েছিল। এই শীতের সকালে ওই একটা চাদর কতজনের গায়ে ঘুরছে তা আমার জানা নেই। জানা নেই ঠিক এই মুহূর্তে কতজন রোদে শুকোতে দিয়েছে চাদরটা। কেবল দেখা হয়ে যায়… তোমার পাজামাটার সাথে, ওড়নাটার সাথে, চাদরটার সাথে, অন্য অন্য শরীরে। তোমার প্রতিটা চুড়িদার গোছানো আছে আমার মাথার ভিতর। তারা কখনো পুরনো…

অতনু চট্টোপাধ্যায়ের পাঁচটি কবিতা

অতনু চট্টোপাধ্যায়ের পাঁচটি কবিতা

অবলোকন বিজ্ঞানমেলায় প্লাস্টিকের ছাউনিতে বসে পূর্ণাঙ্গ আকাশ, তারকাখচিত মণ্ডল, টরাস, ক্যাসিওপিয়া… সমুদ্র প্রাচীন এক ভয়ে খুব সন্তর্পনে হাঁটু অব্দি সবেমাত্র নেমেছি, কে যেন বলে উঠলো – “দেখো, দেখছে তোমাকে।” অস্পষ্ট সঞ্চালিকার গলা -কিশোরীর, অন্ধকারে একটা শিশু কেঁদে উঠলো , ‘ বিলয় ‘ শব্দটা তখনই হটাৎ মাথায় আসে। যে অশ্রুপুঞ্জ মেঘ হয়ে এতদিন থমথমে করে রেখেছিল…

অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

অজিত ভড়ের পাঁচটি কবিতা

বিধিনিষেধ ১৪৪ দৃশ্য শেষ। এইবার কান্না শুরু হবেকে কেমন করে কাঁদবে—তারই নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক। আমপাতা এসে গেছে, জামপাতা এসে গেছে, এমনকি বটপাতা–অশ্বত্থপাতাও এসে গেছে, যার ওপর যেমন নির্দেশ সে সেই পাতায় মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকুক। জীবনের সব কান্নাই শিল্প। মনে রাখবেন, সিগারেট খাওয়া যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর আগুন জ্বালানোও তেমন দেশের পক্ষে ক্ষতিকর— অনুগ্রহ করে—কেউ আগুন জ্বালাবেন না। কপাল ১৬ ঘণ্টা…

সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাঁচটি কবিতা

সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাঁচটি কবিতা

হৈমন্তিকা  তুমি বললে শরৎআসলে হেমন্ত এখন। বাতাসে কান পাতো। শুনবে পাতা খসে পড়ার আওয়াজ। যেমন পুরনো বাড়ির গা থেকে পলেস্তারা যত।মানুষের চেনা ক্যামোফ্লেজ প্রয়াস।  আয়ু -১ কুয়াশায় ভরে গেল মাঠতুমি বললে হাঁটো। হাঁটতে হাঁটতে গাছ।নীচ থেকে ওপরে তাকিয়ে দেখলাম গাছ।আমি ওপর থেকে নীচে দেখলাম গাছ। চণ্ডী মণ্ডপের মাঠ।ফেলে আসা ফুরনো বাজির প্যাকেট উড়ে যাচ্ছে হাওয়ায় হাওয়ায়ও প্যাকেট যেও…

রামকৃষ্ণ মহাপাত্রর পাঁচটি কবিতা 

রামকৃষ্ণ মহাপাত্রর পাঁচটি কবিতা 

নিরুদ্দেশ দেখো এই পথের শেষ নেই কোনও,পায়ে পায়ে চঞ্চলতাফিরে যাবে গোধূলির দিকে,আমিও তোমার দিগন্ত-ছোঁয়াকান্নার ভেতর নিরুদ্দেশ হব একদিন… মাটিজন্ম বিকেলবেলায় বাড়ি ফিরছেনআমাদের বাবা,সাইকেলের চাকায় তখনওলাল ধুলোর ক্লান্তি। আমাদের বাবা সূর্য পেরিয়ে আসেন! তারপর মা আসন পেতেবাবাকে খেতে দেনফুটিয়ে রাখা দু’মুঠো আনন্দছায়া, আর আমরা ছয় ভাইবোনটানাটানির সংসারেবাবার ক্লান্তি, মায়ের আনন্দছায়ার মাঝেবেঁচে থাকিমাটিজন্ম নিয়ে। দিনশেষে দিনশেষে ফুরিয়ে…

সাহির লুধিয়ানভির কবিতার অনুবাদ – সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় 
|

সাহির লুধিয়ানভির কবিতার অনুবাদ – সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় 

‘শায়র এ ইনকিলাব’ সাহির লুধিয়ানভি। বিশ শতকের উর্দু সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি। প্রগতিশীল সাহিত্য সমিতির সদস্য থাকার সময়ে কমিউনিস্ট আদর্শ প্রচার করার জন্য তিনি পাকিস্তান সরকারের গ্রেপ্তারি এড়িয়ে ভারতে আসেন। তখন তাঁর প্রতিবেশী হন গুলজার ও কিষেনচন্দ (প্রথমজন খ্যাতনামা উর্দু কবি ও দ্বিতীয়জন উর্দু ঔপন্যাসিক)। ১৯৪৯ সাল থেকেই তিনি ফিল্মের জন্য গান লিখতে থাকেন। ১৯৬৩ সালে…

অত্রি ভট্টাচার্য-এর কবিতা 

অত্রি ভট্টাচার্য-এর কবিতা 

মার্জারসুন্দরী  ১. দরজায় দাঁড়িয়ে দেখি,রাতের ঘড়ি বারোটা ছুঁলেও, বাইরে যথেচ্ছ আলোসানাইয়ের সিডিটা বার করে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগাচ্ছে পাড়ার সাউন্ডম্যান দু- একটা ক্লান্ত সাইকেল হাওয়া চিড়ে চলে যাচ্ছে  এসময়ে, তোমার ভ্রূ ও পল্লবের মাঝে সাদা বেড়ালছানা হাঁটে যে জানে কার্নিভাল সততই জাগরুক, তার কোনো ইনসোমনিয়া নেই ২. আয়ুর্বেদ মতে, বিড়ালের বিষ্ঠা, ছাগলোম, মেষশৃঙ্গ, বচ…