বাঙালি নির্যাতনের ময়নাতদন্ত ( দ্বিতীয় পর্ব ) – সৌম্য মণ্ডল
পর্ব ২
দুধভাত বঙ্গরাজ্য
সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশের ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেছিলো। ব্যাপক মারধোরের ফলে শারীরিক ভাবে গুরুতর আহত এবং মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশ জানায় যে তারা ভারতেরই নাগরিক, তাই বাংলাদেশে তাদের কোনও ঠিকানা নেই এবং কোনও দিন তারা বাংলাদেশ যায়ওনি। ধৃতরা নিজেদের ভারতীয় দাবি করায় ক্ষুব্ধ বিএসএফ আরেক দফা মারধোর করে, তার পর রাতের অন্ধকারে সীমান্তে বাংলাদেশের দিকে মুখ করে দাঁড় করিয়ে দেয়। এর পর পিঠের পেছনে বন্দুক তাক করে ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বলেছিল, “সোজা হাঁটতে থাকবি, ডান দিক বা দিক করলে বা পেছনে ঘুরলেই ঘুলি করে দেওয়া হবে।” ভয়ে বাংলাদেশের ভেতরে হাটতে থাকে সন্দেহভাজন বাংলাদেশীরা। উল্টো দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সার্চ লাইটের জোর দেখে ওদের মধ্যেই একজন সাবধান করে দিয়ে বলে, “গায়ে লাইট পড়লে কিন্তু ওরা গুলি করে দেবে।” পেছনে এবং সামনের দিক থেকে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর সম্ভাব্য ছুটে আসা গুলির আতঙ্ক বুকে নিয়ে ক্লান্ত আহত শরীরর টেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায় ওরা, সার্চ লাইট দেখলে লুকিয়ে পড়ে গাছের আড়ালে। এইভাবে ভোরে একটি গ্রামের ঢোকার পর বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ভারতের বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকেরা। বর্ধমানের মোস্তাফা কামালের মত একই অভিজ্ঞতা শুনিয়াছেন অন্যান্য ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকরাও, যাদের বন্দুকের নলের ডগায় বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছিলো নিজের দেশেরই সশস্ত্র বাহিনী।
বর্ধমানের মোস্তাফা কামাল বা মালদার ২০ বছর বয়সী আমীর শেখের মত বহু নাগরিক প্রামাণ্য নথিপত্র দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে আবার ভারতে ফিরে এসেছেন। মোস্তাফা কামালের ঠাকুরদা ছিলেন পোস্টমাস্টার, বাবা কর্মরত ছিলেন আধা সেনায়। মোস্তাফাকে যখন মহারাষ্ট্র পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, তখন তার কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, এমনকি মহারাষ্ট্র সরকারের দেওয়া ই শ্রম কার্ডও ছিল। অন্যদিকে আমীর শেখ এর পরিবারের কাছে আছে ১৯২২ সালের দলিল। যদিও মালদার কালিয়াচকের আমীর শেখকে রাজস্থানে যখন পুলিশ বাংলাদেশী সন্দেহে আটক করে, তখন তার কাছে আধার কার্ড এবং জন্ম সার্টিফিকেট থাকলেও ভোটার কার্ড ছিল না। বাংলাদেশী তকমায় দুই মাস রাজস্থানের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার পর আমীরকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
মোস্তাফা কামালকে বাংলাদেশী সীমান্ত রক্ষীবাহিনী আটক করার পর, মোস্তাফা তাদের সমস্তটা খুলে বলেন। এর পর বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনী যোগাযোগ করে বিএসএফ এর সাথে, মোস্তাফা কামাল তার পরিবার, প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর এবং স্থানীয় থানার সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে নিজের দেশের সরকার বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পর আমীর একটি চায়ের দোকানে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে বসে কাঁদছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তি তার কান্নার ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। সেই ভিডিও দেখে তার বাড়ি পৌঁছান পরিযায়ী ঐক্য পরিষদের সম্পাদক আসিফ ফারুক, বাংলাপক্ষের সুপ্রিমো গর্গ চ্যাটার্জি প্রমুখ। পরবর্তীতে কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খানে এবং আসিফ ফারুকের সক্রিয় উদ্যোগে আমীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রশ্ন হল, প্রয়োজনীয় নথি না থাকার কারণেই যদি উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশী চিহ্নিত করে সীমানার ওপারে ঠেকে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে কীভাবে পরবর্তীতে একই নথি দেখিয়ে ভারতীয় নাগরিকরা আবার দেশে ফিরে আসছেন?
বীরভূমের নলহাটির ফেরিওয়ালা আজহারউদ্দীন এর দাবি, আগেই এই সমস্যা ছিল না, গত এক বছর ধরে, ওড়িশায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকে বাঙালি বিদ্বেষ এবং হয়রানি বাড়ছে। “প্রথমে গ্রামে গেলে আমাদের বাঙালি বলে তাড়িয়ে দিতো,এখন বাংলা ভাষায় কথা বলতে শুনলেই পুলিশ থানায় ডেকে নিয়ে যাচ্ছে, তার পর আধার ভোটার যাই দাওনা কিছু গ্রাহ্য করছে না, বলছে মমতা ব্যানার্জি তোদের এসব ডুপ্লিকেট বানিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে,শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই এসব বলছে” আজহারউদ্দীন এর অনুমান বিজেপির সাথে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ঝামেলার জন্যেই এমন হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার কাবাডি ব্যবসায়ী নাথুরামের দাবি, শ্রমিক নিয়োগ করার আগে তিনি তাদের কাছে আধার ভোটার সহ বিভিন্ন ডকুমেন্টস সংগ্রহ করেন। কিন্তু হরিয়ানাতে ডকুমেন্টস দেখা হচ্ছে না। যারা ধরা পরেছে, তাদের প্রত্যেকের কাছে আধার এবং ভোটার কার্ড ছিল।
মোস্তাফা কামালকে যখন বর্তমান লেখক জিজ্ঞাসা করে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি আপনার জন্য কোনও সার্টিফিকেট বা আই কার্ড করে দেয়, তাহলে সুবিধা হবে কিনা? মোস্তাফার উত্তর- কাগজ দেখলে তবে তো কাগজ কাজে লাগবে, আমার কাছে তো সব রকম কাগজই ছিল, ওরা কোনও কাগজ দেখতেই রাজি নয়। বলছে এরকম নকল কাগজ বানানো যায়”।
অন্যদিকে ওড়িশা বা মহারাষ্ট্রে বাংলাদেশী সন্দেহে ধৃত মতুয়াদের কাছে শুধু ভোটার আধার নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি সাংসদ এবং একই সাথে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের সই করা “মতুয়া কার্ড” থাকলেও পুলিশ সেই কার্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা।
এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে নিখিল ভারত বাঙালি সমন্বয় সমিতির সভাপতি সুবোধ বিশ্বাস বলেন, “বাংলার বাইরে কি কেউ মতুয়া বোঝে? সংবিধানে তো মতুয়া কার্ডের কোনও গুরুত্ব নেই”। যদিও ২০১৯ সালে এই মতুয়া কার্ড মতুয়াদের ভারতের নাগরিক আইন থেকে রক্ষা করবে, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুর। লাখ লাখ মানুষ এই কার্ড শুধু বানায়নি দু এক টাকা উৎপাদন খরচের কার্ডটি কয়েক শত এমনকি হাজার খানেক টাকায়ও ব্ল্যাক হয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রয়োজনের সময় এই কাউকে রক্ষা করছে না। যেখানে ভারত সরকারের জারি করা ভোটার আধার কাজে দিচ্ছে না, সেখানে মতুয়া মহাসঙ্ঘের কার্ড কাজে দেবে, এমন আশা করলে ঘোড়াতে হাসবে বৈকি।
কিন্তু ভুক্তভোগীদের বয়ান থেকে স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ক্ষেত্রের ভিতর জারি হওয়া পরিচয় পত্র, যা কেন্দ্রীয় সংস্থা জারি করে থাকে(আধার, ভোটার) সেগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেন, নকল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি ভেরিফিকেশন এরও প্রয়োজন মনে করছে না বাইরের রাজ্যের পুলিশ বা বিএসএফ। সুতরাং লিখিত ভাবে না হলেও কার্যত পশ্চিম বঙ্গের সীমানায় জারি হওয়া সমস্ত পরিচয়পত্র বাতিল হয়ে গেল বা সন্দেহের আওতায় চলে এলো। এই রাজ্যের মানুষের পরিচয়পত্রকে সন্দেহ করার যে সংস্কৃতি দেশ জুড়ে পুলিশ বা আধা সেনার মধ্যে যে ভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হল, তাতে আগামী দিনে বাঙালি অভিজাত, কর্পোরেট কর্মচারী, বা পর্যটকদের পুলিশি হেনস্তা পথ যে পরিষ্কার হয়ে গেল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তারই হয়তো একটি ঝলক দেখলাম নয়ডায় জাতীয় স্তরে স্কেটিং প্রতিযোগিতায় বাংলার শিশু প্রতিনিধিদের হোটেল বুকিং বাতিলের মধ্যে দিয়ে, যেখানে এক অভিজাত হিন্দু অভিভাবককে হোটেল কর্তৃপক্ষ মুখের উপর বলে দিলো- বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ একই ব্যাপার, তাই স্বাধীনতা দিবসের আগে বাংলাদেশীদের হোটেল ভাড়া না দেওয়ার ব্যাপারটা পশ্চিমবঙ্গের বেলায়ও খাটে!
১৪ই জুলাই ফেসবুক লাইভে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন ছত্তিসগড়ের আলবেলা পাড়া এলাকায় একটি প্রাইভেট স্কুলে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলো বাংলার নয় জন শ্রমিক। ১২ তারিখ রাতে পুলিশ এসে তাদের তুলে নিয়ে যায়, তার পর থেকে তাদের ফোন অফ, বাংলার সরকার বা বাংলার পুলিশকে কোনও খবর দেয়নি ছত্তিসগড় সরকার। পরিবারের মাধ্যমে এই খবরটি সাংসদের কাছে আসে। পরবর্তীতে রাজ্যপুলিশের হস্তক্ষেপে তাদের মুক্ত করা হয়।
আমীর শেখের দাবি, রাজস্থানে যখন তাকে বাংলাদেশী বলে আটক করা হয়, তখন সে বাড়ির সাথে যোগাযোগ করতে চাইলেও পুলিশ তার কথা কানে নেয়নি।
পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দাবি সাধারণত ভিন রাজ্যের পুলিশ বা বিএসএফ সন্দেহভাজনের বিষয়ে তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে না, সরাসরি ডিটেনশন বা বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
যদিও এই বছর জানুয়ারি মাসে ছত্তিসগড়ে সুরজপুরে একটি কারখানায় মালিক শ্রমিক দ্বন্দ্ব দেখা দিলে, বজরঙ্গ দল ঐ কারখানার চারজন বাঙালি শ্রমিককে বাংলাদেশি বলে মারধোর করে, এর পর ছত্তিসগড় পুলিশ পুরুলিয়ায় অবস্থিত ঐ শ্রমিকদের স্থানীয় থানায় খোজ খবর করে দুই জন শ্রমিককে পুরুলিয়া ফিরিয়ে দেন। অন্য দুই জন নাবালক হওয়ায় তাদের ছত্তিসগড়ে হোমে রাখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য রাজ্যের পুলিশ বাঙালিদের বাংলাদেশী তকমায় ধরার পর, ধৃতের দাবি মত তার স্থানের থানায় যোগাযোগ করলেও, সাধারণত শারীরিক অত্যাচার, ডিটেনশন বা ডিপোর্টেশনের আগে প্রশাসন এটা করছে না, করলে এত ভারতীয় নাগরিককে ডিপোর্ট হওয়ার পর আবার ফিরে আসতে হত না।
প্রশ্ন হল- ভুয়ো নথির সমস্যা নতুন কিছু নয়, যে কোনও রাজ্যে, যে কোনও দেশেই ভুয়ো নথির সমস্যা আছে। পশ্চিমবঙ্গ আলাদা কিছু নয়। নথি নিয়ে সন্দেহ হওয়াটাও বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু সন্দেহ হওয়ার পর কীভাবে এবং কেন রাজ্য সরকারের কাছে ভেরিফিকেশন না করে, বা রাজ্য সরকারকে ডিঙিয়ে একজন বাংলার মানুষকে ডিটেনশনে দেওয়া হবে, শারীরিক নির্যাতন করা হবে বা বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হবে? এটা যেমন নাগরিকের অবমাননা তেমনি রাজ্য সরকারের অবমাননা, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর অবমাননা।
একদিকে চোখ বন্ধ করে বাংলার সমস্ত পরিচয়পত্রকে সন্দেহ করা অন্যদিকে সেই সন্দেহ নিয়ে রাজ্য সরকারের সাথে যোগাযোগ না করে, রাজ্যের মানুষকে নির্যাতনের মুখে ঠেলে দেওয়া ভারতের রাষ্ট্র কাঠামোয় পশ্চিমবাংলাকে সম-অধিকার বা মর্যাদা সম্পন্ন শরীকের জায়গায় নিতান্ত উপনিবেশে পরিণত করে না কি?
যদি ঘটনাটা দু একটি থানার বিষয় হত তাহলে না হয় পুলিশি অশিক্ষাকে দোষ দেওয়া যেত। কিন্তু এতগুলো রাজ্যের পুলিশ এবং সীমান্ত রক্ষীবাহিনী একই রকম কাজ করতে শুরু করে এক সাথে, তখন বুঝতে হবে, এই সমস্যা কোনও একটি সুতোয় গাঁথা, পশ্চিমবঙ্গ বা বাঙালি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে গৃহীত কোনও নীতির ফলাফল এটা। এবং এই সুতোটি স্পষ্ট হয় যখন দেখি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা খোলাখুলি বাংলা ভাষা দেখে বিদেশি চিহ্নিত করতে বলছেন! বা মহারাষ্ট্রের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ভাষা বুঝে বাংলাদেশী ধরার AI তৈরির কথা বলছেন। এর মত অবমাননাকর আর কি হতে পারে? বাঙালির মাটি এবং মানুষ কেটে এই পশ্চিম ভারতের পুঁজিপতিরা ভাগ করেছে। একই ডায়লেক্টের মানুষ সীমানার দুই পারে ভাগ হয়ে গেছে। পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষেরা পশ্চিমবঙ্গের জনসম্পদের অংশ। এই বাস্তবতায় AI দিয়ে বাংলাদেশী ধরা বলতে ঠিক কি বোঝায়? তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পশ্চিমবঙ্গের সাথে সমমর্যাদা সম্পন্ন একটি স্টেটকে এই অধিকার এবং সাহস কে দিলো? এটা কি বাঙালির আত্মমর্যাদা, অস্তিত্বের উপর আঘাত নয়? সুতরাং এই সমস্যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তথা ভারতের বাঙালিদের উপনিবেশিক সাবজেক্টে পরিণত হওয়ার সমস্যা।
ধীরে ধীরে আমরা পরবর্তী পর্ব গুলোতে এই বাঙালি নির্যাতনের আইনি ভিত্তি এবং তার রাজনৈতিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য অনুসন্ধান করবো।

