হারানো সুর – শুভদীপ চক্রবর্তী

শেয়ার করুন

ভারাক্রান্ত হৃদয়ের ডাকে অস্পষ্ট চোখগুলো

মাঝে মাঝেই ভাষা হারিয়ে মিশে যায় মেলানকলির অতলে।

বিষন্ন মন ভেসে যেতে চায় অশ্রু ধারায়, সযত্নে লালিত স্বপ্নের ডিঙি বেয়ে ছন্দহীন কোনো সুর তালে।

 

যে নিরিবিলি ছায়ায় একদিন মনের সাথে মনের কাটাকুটি খেলত ওরা, আজ দেখো ওদের দৈন দশা।

গ্রহণ কেটে বাস্তবতার তীব্র তাপে জ্বলছে ওদের দাহ্য ভালোবাসা।

 

সময়ের সাথে সাথে কালচে হয়ে যাওয়া রক্তের মতো ক্রমশ ফিকে হতে হতে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে ঠুনকো আত্মবিশ্বাস।

গোলাপ তার ঘ্রাণ হারাতে হারাতে আজ ভুলতে বসেছে নিজের অস্তিত্ব, বেঁচে থাকার সমস্ত আশ্বাস।

 

সাদা কালো মেঘের লুকোচুরি খেলার প্রহসন থেকে গ্রহণ কেটে ঠিকরে বেরোবে ওদের ভালোবাসার সূর্য, আবার আজ।

অন্তঃসার শূন্য ভালোবাসাকে নতুন করে করবে ওরা আবিষ্কার, দূর হবে আছে যত দুঃখসাজ।

 

শেয়ার করুন

Similar Posts

  • কস্তুরী সেনের পাঁচটি কবিতা

    শুরু নারাণ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু হল এই বর্ষাকাল,যূথী নাই জাতী নাই, প্রতীতি কি হবে?প্রতীতি, শব্দের মানে সহাস্য কুসুম।ঘন রাস্তা লোক ভিড় নতুন ফলের গন্ধ সঙ্গে নিয়ে বর্ষা এল সন্ধে সন্ধে,‘একটি কবিতা চাই’ বর্ষা এল শিয়ালদাবাজারবেঁটে ছাতা ত্রিশ টাকা দরদামে চমৎকার খুশি হয়ে লাফিয়ে ধরেছ যে রানিংয়ের ট্রেন,তোমাকে শোনাই এসো গ্বালিবের প্রেমিকাটি বাঙ্গালিনী ছিল এ প্রবাদ…

  • বটপাকুড়ের বিবাহবার্ষিকী – সোহেল ইসলাম

    ১.সানাই বাজার চার বছর পূর্ণ করেওরাও মানুষের মতো আচরণ শুরু করলসর্প দেবতার থানে ফুল চড়িয়েঘাটে ধুয়ে এল গাছ অবতারের জীবনবারান্দার দড়িতে ঝগড়া মেলে দিলবিছানায় পাতল ফুলআঁকা চাদরকাঁথার চেনা সেলাই না করল না ২.একটা কোটর দরজা হলে কেমন লাগেদেখার জন্যধানের আঁটি বাড়ি ফিরছেতাল কুড়ানোর আনন্দ রওনা দিল বলেরাস্তার ধুলোয় পিছলে পড়ছে দুপুরকচু পাতায় টলটল করছে জলের…

  • অর্ণব রায়ের গুচ্ছ কবিতা

    আমাদের কান্না একফসলী জমি আর যে যার শষ্য তুলে নিয়ে ঘরে চলে গেছে ১/   আর একটু ভালোবাসা পেলে হয়তো বেঁচে যেতাম। যেন পৃথিবীর আর কেউ নেই। দেশে খেতে বসার আকাল লেগেছে। এত এত প্রার্থনার ভার। কেউ জগতের হেঁশেল উঠিয়ে নিয়ে চলে গেছে অবেলায়। সে একা, থরথর কাঁপতে কাঁপতে ছুটছে। তার কক্ষপথপিছলে যাচ্ছে। পৃথিবীপৃথিবীর মনে…

  • একটি লম্বা লাইন – জিললুর রহমান

    একটি লম্বা লাইনে প্রভাতফেরিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি মধ্যরাতে একুশের অপেক্ষায়— হাতে ফুল — নগ্ন পদ — শাদা পাঞ্জাবির সাথে ঢলঢলে পাজামা একটি দীর্ঘ লাইন এক সুরে গুঞ্জন করছে শীতল বাতাসে রোমকূপে শীতকাঁটা উঠে আছে আমরা অপেক্ষমান সেই বায়ান্নোর ফেব্রুয়ারি থেকে ওরা বলেছিল যাহা বাহান্ন তাহা তেপ্পান্ন আমরা প্রতিবাদ করি আমাদের মাতৃভূমে বায়ান্ন জুড়েই আছে মাথা নত না করার দৃপ্ত স্বরআছে শহিদের রক্তাক্ত শার্টের ’পরে…

  • জিয়া হকের পাঁচটি কবিতা

    ক. বোধগম্য নও, তবু হেসে ওঠা ধর্ম আমারমেরুদাঁড়া ভেঙে যায় রোজ রাত্রিবেলামানুষের ভাষা যেন বুঝতে পারি নাকাউকে পাই না বলে ঈশ্বরাদি ডাকিঈশ্বরকে ডাকি বলে কাউকে পাই নাক্ষমাশীল তিনি—এমনই শুনেছিমায়েদের চেয়ে মাতৃময়মাতৃময়ী না লিখে তাকে আমি পুরুষে রাখলাম‘করুণা করুণা’ বলে ডাকি সেই উঁচু নীরবতাআমার কথারা ঘোরে মনের জঙ্গলে আমারপশুমাংস চাই না আর চাই একটা গাভীর শাবকবিশ্বাস…

  • ঘর – অয়ন চৌধুরী

    শরীর ছুঁয়েছে অদম্য বিষ রাত্রির কিনারে এক একটি খোলা ভেঙেছে জ্যোৎস্নার মতো যেটুকু পর্ণমোচী বিকেল লুকোনো ছিল একান্ত নিঃস্তব্ধতায় কখন যেন বছর পেরিয়ে হারিয়ে গেল জীর্ণতায়! বুকের উপর যে দুটি শালুক সান্ধ্য-কোলাজে আজ না-হয় বৃষ্টি নামুক একটা ঘর সাজুক মোমবাতিতে না কোনও শোকের সিম্ফনিতে যে ঘরের প্রথম ও শেষ একটা সমুদ্রের বুকের মতো ধরে থাকবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *