জনগণ সার্বভৌম না রাষ্ট্র? – ধীমান বসাক

শেয়ার করুন

প্রায় এক কোটি ভোটারকে অনিশ্চিত রেখে পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণা হয়ে গেল। এই বঞ্চনার কি কোন প্রতিক্রিয়া হচ্ছে? তার বহিঃপ্রকাশ আছে কিছু?

বাদ পড়েছেন মূলত বাসস্থান বদল করতে বাধ্য হওয়া মানুষেরা। বিবাহের কারণে মেয়েরা, দেশভাগের কারণে উদ্বাস্তুরা, পরিযায়ী শ্রমিকরা, বাসাবদল করা ভাড়াটিয়ারা, বাইরে বাইরে চাকরি করতে থাকা মানুষজন, ইত্যাদি। কোনও একটা বছরকে হঠাৎ করে কাট-অফ ধরলে তাই হবে, তাও তেইশ বছর আগের একটা ভোটার লিস্ট। আর সাথে যে চারটে নথি প্রায় সমস্ত ভারতের সবার আছে, আধার, ভোটার, প্যান এবং রেশন, সেগুলোকেই বাদ রাখা হল স্বীকৃত ডকুমেন্টের লিস্ট থেকে।

সুতরাং সার (SIR) একটি বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া। বকলমে এনআরসি-র প্রথম ধাপ।

কিন্তু কিছু সামাজিক সংগঠন, কিছু গণসংগঠন ও ব্যক্তি ছাড়া কোন রাজনৈতিক দলই, এখনও পর্যন্ত সার বাতিলের দাবী তোলেননি বা এটাকে বয়কটের স্লোগানও দেননি।

ইলেকশন কমিশন বলেছিলেন, ২০০২ সালের লিঙ্ক থাকলে তাকে আর কোনও ডকুমেন্ট দিতে হবে না। সেকথা সরাসরি মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়েছে। লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির নাম করে, লিঙ্ক থাকলেও লাখ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত জনসমাজের প্রতিক্রিয়া যা তা হল, মতুয়া বা উদ্বাস্তুদের সামনে ক্যা দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার টোপ, যা ঝুলিয়েছে বিজেপি। আর লজিকাল অ্যাডজুডিকেশনে থাকা সংখ্যালঘু মানুষদের পাশে আছি বোঝাতে চলছে ধর্না, বিভিন্ন বিবৃতির খেলা। আর বাদ যাবে প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ।

এই অবস্থায় নির্বাচন একটা প্রহসন হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) ধারায় বলা আছে বিশেষ সংশোধনের কাজ শেষ না হলে, সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার সময় বহাল থাকা ভোটার লিস্ট ধরেই কাজ চলবে। পশ্চিমবঙ্গে জোরালো ভাবে এই দাবী সমস্ত অ-বিজেপি দলের তোলা উচিত যে ভোট করতে হবে ২০২৫-এর ভোটার তালিকা ধরে।

আর সার বাতিলের দাবীতে যারা লড়ছেন, তাদেরকে এক জায়গায় আসা এবং ভুক্তভোগী মানুষের মধ্যে যাওয়ার বড় আশু প্রয়োজন।

ধীমান বসাক

আইনজীবী

SIR নিয়ে অন্যান্য লেখা

শেয়ার করুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *