বাঙালি নির্যাতনের ময়নাতদন্ত (তৃতীয় পর্ব ) – সৌম্য মণ্ডল
পর্ব ৩
উদ্বাস্তু শরণার্থী অনুপ্রবেশকারী- শব্দ বিভ্রান্তির সুযোগে মিথ্যা প্রচার
এই পর্যায়ে যে বিষয়টিকে সামনে রেখে বাঙালি নির্যাতনের ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে সেটা হল অনুপ্রবেশ এবং নাগরিকত্বের বৈধতা। এর সাথে আছে NRC, NPR, CAA বা SIR সম্পর্কে অস্বচ্ছতা। এই বিষয়গুলো আলোচনায় প্রায়শই দেখা যায় সরকার পক্ষ, বিরোধী পক্ষ এবং সংবাদ মাধ্যম বেশ কিছু শব্দের অর্থ নিয়ে গুলিয়ে ফেলে, ফলত জনতার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তাই এই সময়ের বাঙালি নির্যাতনের আইনি ভিত্তিটা বোঝার জন্য প্রথমে কিছু শব্দের অর্থ স্পষ্ট করে নেওয়া প্রয়োজন।
সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই তারিখ অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পর পর দুটি বিজ্ঞপ্তি সংবাদ মাধ্যম থেকে সামাজিক মাধ্যমে হৈচৈ ফেলে দিলো। প্রথমটি ১ সেপ্টেম্বর জারি হয়েছে যেখানে বলা হয় – “আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যথা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ভুক্ত কোন ব্যক্তি, যিনি ধর্মীয় নির্যাতন বা ধর্মীয় নির্যাতনের ভয়ের কারণে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৪-এর বা তার আগে ভারত প্রবেশ করেছেন —
(i) পাসপোর্ট বা অন্যান্য বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া, অথবা
(ii) পাসপোর্ট বা অন্যান্য বৈধ ভ্রমণ নথি সহ, কিন্তু উক্ত নথিগুলির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।”
এই বিজ্ঞপ্তির পর বিজেপির প্রচারকেরা এবং সংবাদ মাধ্যমের এক বড় অংশ প্রচার করতে শুরু করেছে যে উক্ত তিন দেশ থেকে হিন্দুরা প্রয়োজনীয় কাগজ ছাড়া বা বে-আইনি ভাবে ভারতে আসলেও কেন্দ্র সরকার তাদের নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ এর আওতায়।
দ্বিতীয়টি হল, অবৈধ অভিবাসীদের জন্য রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গুলোকে ডিটেনশন ক্যাম্প বানাবার নির্দেশ।
একই সাথে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে লাগু হয়েছে নয়া অভিবাসন এবং বিদেশী আইন, যার বলে একজন কনস্টবল পর্যায়ের পুলিশ যে কাউকে বাংলাদেশী সন্দেহে আটক করতে পারে।
কিন্তু এর পরেও বেশ কিছু বাঙালি হিন্দুকে বাংলাদেশী অভিযোগে গ্রেফতার বা হয়রানির অভিযোগ এসেছে-
৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ইউনিয়ন সরকারের উক্ত নোটিফিকেশনের দুই দিন পর নিউজ ১৮ বাংলা খবর করেছে, “একসঙ্গে তিনজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করল এসএসবি! খড়িবাড়ির ময়নাগুড়ি গ্রামে বাংলাদেশি পরিচয় গোপন রেখে বসবাসের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে এসএসবি!ধৃতরা হলেন অমল চন্দ্র রায়, যিনি ভারতীয় নথিতে অমল বর্মন নাম রয়েছে। অন্যদিকে অমলের দুই ছেলে গৌতম রায় ও পঙ্কজ রায়! ধৃতদের বাংলাদেশের নথিতে রায় পদবি থাকলেও ভারতীয় নথিতে বর্মন রয়েছে। ধৃত পঙ্কজ রায়ের নাম পরিবর্তন করে প্রীতম বর্মন নথি উদ্ধার করেছে এসএসবি।” প্রসঙ্গত এসএসবি বা সীমা সুরক্ষা বল একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা।
প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যাচ্ছে যে – “প্রীতম ওরফে পঙ্কজ ২০২৪ সালে এপ্রিল মাসে ভিসা নিয়ে এলেও মেয়াদ উত্তীর্ণের পরেও ফিরে যায়নি। গৌতম দালাল ধরে মেখলিগঞ্জ সীমান্ত ধরে গত বছর ডিসেম্বর মাসে অনুপ্রবেশ করে। পাশাপাশি অমল ভিসা পেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে এসে মেয়াদ উত্তীর্ণের পরেও ফিরে যায়নি।” সুতরাং জানা গেল যে ধৃতদের মধ্যে অন্তত দুইজন ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে ঢুকেছিলো!
এই বছরই কলকাতার বিক্রমগড় থেকে অবৈধ বাংলাদেশী তকমায় গ্রেফতার হন শান্তা পাল নামে এক মডেল এবং অভিনেত্রী। এই শান্তা কিন্তু ভারতে প্রবেশ করে ২০২৩ সালে। প্রশ্ন হল ১লা সেপ্টেম্বরের নোটিশের পর শান্তার উপর থেকে কি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে? উত্তর হল- না। এই ১১ই অক্টোবর এই পর্বটা লেখা পর্যন্ত শান্তা পাল জেলেই আছেন।
অন্যদিকে উত্তর ২৪পরগণার মছলন্দপুরের বাসিন্দা প্রিয়ন্তী বিশ্বাস এবং শ্রেয়া বিশ্বাস নামে মেডিক্যাল ছাত্রী দুই বনের তফসিলি জাতি সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয় জেলা প্রশাসন এবং তাদের মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিতাড়িত হতে হয়। এর মধ্যে প্রিয়ন্তী মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের হাউস স্টাফ ছিলেন। তাকে রোস্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং অন্য দিকে শ্রেয়া জে বি রয় স্টেট আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ থেকে তৃতীয় বর্ষে পড়াকালীন বিতাড়িত হয়েছে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং মতুয়া ধর্মগুরু সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর হস্তক্ষেপ করে সমাধানের চেষ্টা করলেও জেলা প্রশাসনের আমলারা মানতে নারাজ। প্রশাসনের দাবি এই দুই জন আসলে বাংলাদেশী!
যে বিষয়ের অস্পষ্টতা জনতার মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে সাহায্য করেছে, তা হল ১) বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে এলেই কি অটোমেটিক্যালি ধরে নেওয়া হবে যে তারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে এসেছে? ২) ধর্মীয় নিপীড়নের জন্য ভারতের আসলেই কে সে অটোমেটিকালি শরণার্থী নাকি এর জন্য আলাদা কোনও প্রক্রিয়া আছে?
এ ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দুদের সবাইকে যদি বিদেশি আইন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাহলে কি বাংলাদেশী সন্দেহে বিদেশি আইনে ভারতের বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক হিন্দুরা ছাড়া পেয়ে গেছে?
২০২৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বরে নোটিফিকেশনের পর বর্তমান লেখকের সাথে অন্তত দুইজন জন্ম সূত্রে মুসলিম নাগরিক যোগাযোগ করেন। তাদের মধ্যে একজন রুপান্তরকামী নারী। অন্যজন যুবক। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল যে তারা ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু হয়ে ভারতে এলে CAAএর অধীনে নাগরিকত্ব পাবেন কিনা? তারা জানায় ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার এই উপায়টা তারা জেনেছে ফেসবুকে কিছু হিন্দুত্ববাদী গ্রুপ থেকে। সুতরাং আইনি অজ্ঞানতার সুযোগে নাগরিকত্ব পাওয়া কে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রতারণা চক্র গড়ে ওঠার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সাধারণত উদ্বাস্তু, রিফিউজি/ শরণার্থী, অভিবাসী, অনুপ্রবেশকারী শব্দগুলোকে সমার্থক ভাবে ব্যবহার করা করা হয়। যদিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে, সমাজ বিদ্যায় বা সরকারি কাজে এই শব্দগুলোর আলাদা আলাদা অর্থ হয়। এই শব্দ নিয়ে বিভ্রান্তি অনেক সময় সমস্যার সঠিক বিশ্লেষণ এবং সঠিক দাবি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯, বা সিএএ ২০১৯ নিয়ে শাসক ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পেরেছে এবং বিরোধীরা যে সেই ফাঁদে পা দিয়েছে তার অন্যতম একটি কারণ হল শব্দ নিয়ে বিভ্রান্তি। আমরা অতি সংক্ষেপে এই শব্দগুলোর অর্থ, এই শব্দগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক এবং সিএএ ২০১৯ নিয়ে কী ভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে সেই নিয়ে আলোচনা করব।
উদ্বাস্তু
উদ্বাস্তু শব্দের অর্থ বাস্তুচ্যুত । বিভিন্ন কারণে, যেমন রাজনৈতিক হিংসা, ধর্মীয় হিংসা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কারখানা স্থাপনের নামে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ, বস্তি উচ্ছেদ, ইত্যাদি, বিভিন্ন কারণে মানুষ উদ্বাস্তু হতে পারে। এই উদ্বাস্তুরা যদি বাস্তু হারিয়ে নিজের দেশের ভিতরেই থাকেন তবে তাঁরা শরণার্থী বা রিফিউজি নন। তাঁরা তখন নিজের দেশেই আছেন, তাই সরকারের কাছে নিজের দেশে থাকার অনুমতি চাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। এদের বলা হয় ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড পার্সন (আইডিপি)। গুজরাট দাঙ্গা, মুজাফ্ফরনগর বা সম্প্রতি কালে মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা মনিপুরে জাতি দাঙ্গার কারণে যে সমস্ত মানুষেরা ঘর বাড়ি ছেড়ে দেশের ভেতরেই অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য হয়েছেন, খনি স্থাপনের জন্য বা নকশাল দমন কর্মসূচীর কারণে ছত্তিসগড়, ঝাড়খন্ডের যে আদিবাসীদের বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে তারা সবাই উদ্বাস্তু। ইন্টারনাল ডিপ্লেসপেন্ট মনিটরিং সেন্টারের হিসেব অনুযায়ী ২০২৪ এর শেষ অব্দি গোটা দুনিয়াতে ৮৩.৪ মিলিয়ন বা আট কোটি তিন লাখ চল্লিশ হাজারের মত মানুষ এবং ভারতে ৫.৪ মিলিয়ন বা ৫০ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ শুধু উদ্বাস্তু হয়েছেন।
অভিবাসী বা মাইগ্রেন্ট
দেশের ভিতর এক জেলা থেকে অন্য জেলায়, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে, বা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যারা স্থানান্তরিত হন তাঁদের বলা হয় অভিবাসী বা মাইগ্রেন্ট। বাস্তু হারিয়েও মানুষ অভিবাসী হয়, আবার বাস্তু না হারিয়েও উপার্জনের জন্য, একটু ভালো থাকার জন্য মানুষ স্বেচ্ছায় অভিবাসী হতে পারেন। এক দেশের ভেতর অভিবাসন ঘটলে সাধারণত তা বৈধই হয়। কিন্তু অন্যদেশে অভিবাসন হলে সেটা অবৈধ এবং বৈধ দুই প্রকার হতে পারে। অন্যদেশের নিয়ম কানুন মেনে যে অভিবাসন হয় সেটা বৈধ অভিবাসন আর আইন না-মেনে অভিবাসন হলে সেটা অবৈধ অভিবাসন হিসাবে গণ্য হয়। বিভিন্ন কারণে যেমন (রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসা) মানুষ যদি অভিবাসনে বাধ্য হয় তবে এটাকে বলা হয় “পুশ এফেক্ট”। আর উন্নত জীবন বা কোনো কিছুর টানে মানুষ যখন স্বেচ্ছায় অভিবাসনে যায় তাকে বলে “পুল এফেক্ট”। যেমন আইনিভাবে বা বে আইনি ভাবে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে বা ভারত থেকে উচ্চ আয়ের দেশে মানুষ জীবীকার খোঁজে যায়।
শরণার্থী বা রিফিউজি
যখন কেউ নিজের দেশে সরাসরি হিংসার শিকার হয়ে বা নিপিড়ীত হওয়ার আশংকায় অন্য দেশের আশ্রয় প্রার্থী হন তখন তিনি শরণার্থী বা রিফিউজি হিসাবে গণ্য হন। অর্থাৎ শরণার্থীর অভিবাসনের পিছনে পুল এফেক্ট নয় বরং পুশ এফেক্ট কাজ করে। শরণার্থী কে আশ্রয় চাইতে হয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘ বলছে যারা কাজের সন্ধানে বা অর্থনৈতিক কারণে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যান, আর যারা অত্যাচারের কারণে, প্রাণের দায়ে, এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন, তাঁদের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। আশ্রয়দাতা দেশ কখনই কোন শরণার্থী কে জোর করে নিজের দেশে ফেরত পাঠাতে পারবে না। যেমন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকরা, মায়ানমারের রোহিঙ্গারা বা লেখিকা তসলিমা নাসরিন অন্যদেশে শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়ার দাবিদার। কারণ এদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশের নাগরিকত্ব চাইতেও পারেন, আবার নাও চাইতে পারেন। আশ্রয়দাতা দেশ তার নীতি অনুযায়ী নাগরিকত্ব মঞ্জুর করতে পারে, আবার নাও পারে। সমস্যা মিটলে শরণার্থীরা নিজের দেশে ফিরে যেতে পারেন বা সমস্যা না মিটলে এক আশ্রয়দাতা দেশ থেকে চলে গিয়ে অন্য দেশের কাছেও আশ্রয় প্রার্থী হতে পারেন।
অনুপ্রবেশকারী
এই শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ “ইনফিলট্রেটর”। অনুপ্রবেশ বা ইনফিলট্রেটর বা “ঘুসপেঠিয়া” শব্দের সঙ্গে চক্রান্ত, দুরভিসন্ধি এবং অপরাধের গন্ধ আছে। পাশাপাশি জঙ্গি এবং অনুপ্রবেশ শব্দ দুটি আমরা দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়াতে শুনে আসছি।
যদিও ভারতের নাগরিকত্ব আইনে “ইনফিলট্রেটর” বলে কোনো শব্দ নেই। “ইলিগাল মাইগ্রেন্ট” বা অবৈধ-অভিবাসী শব্দটি আছ। বাঙালি উদ্বাস্তু বা কাজের খোঁজে যে সমস্ত গরীব মানুষ ভিসা পাসপোর্ট ছাড়া অভিবাসী হয়ে ভারতে এসেছেন তাঁদের অপরাধী তকমা দেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ “ইলিগাল মাইগ্রেন্ট” এর অনুবাদ “ঘুসপেঠিয়া” করেছেন এমন মনে করাটা কি ভুল হবে?
সুতরাং…
স্পষ্টতই নাগরিকত্ব সংশোধনি আইন ২০১৯ এ বা সেপ্টেম্বর মাসের নোটিফিকেশনে যাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, তারা শরণার্থী, অর্থাৎ যারা ধর্মীয় নিপীড়ন বা তার আশঙ্কায় ভারতে আশ্রয় চেয়েছে। এবং শরণার্থী কেউ এমনি এমনি হয়ে যায় না, শরণার্থীর মর্যাদা পেতে হয়৷ নিপিড়নকে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এই প্রমাণের পদ্ধতি কী? পরবর্তীতে আমরা এই নিয়ে সরকারি নথি থেকে জানবো। আপাতত পাঠক এইটুকু মাথায় রাখুন যে বাংলাদেশ থেকে আগত সকল হিন্দুই শরণার্থী এরকম কোনো আইন বা ঘোষণা এখনো পর্যন্ত নেই। বরং পুলিশি ধরপাকর অন্য কথা বলে। এই কারণেই হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্ট- CAA তে আবেদন করলেই নাগরিকত্ব পাকা, কোনো আবেদনই বাতিল হবে না- বিজেপিপন্থীদের এই ভুয়ো দাবি উডিয়ে প্রসূণ মৈত্রের করা আবেদন খারিজ করে, যেখানে CAA তে আবেদনের রসিদের ভিত্তিতে ভোটার লিস্টে নাম তোলার কথা বলা হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট জানায় CAA সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ভোটার লিস্টে নাম তোলা যাবে। CAA প্রতারণার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এবং মিডিয়া CAA সার্টিফিকেট আর আবেদনের রসিদের পার্থক্য গুলিয়ে দিলো, আবেদন করে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি আর শুধুমাত্র আবেদন করা ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্যটা গুলিয়ে দিলো।
পরের পর্বে আমরা আরও বিস্তারিত ভাবে বুঝবো কী ভাবে সরকারি নথি এবং রাজনৈতিক ভাষ্য উলটো কথা বলছে এবং কী ভাবে বাঙালির সাথে ব্যাপক প্রতারণার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে

